হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে দেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপে পাহারার ব্যবস্থা করবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটি ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী এবং ছাত্রদল, যুবদল ও শ্রমিক দলের প্রতিনিধিরা এই নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাঠপর্যায়ে কাজ করবেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নবগঠিত দুর্গাপূজা পর্যবেক্ষণ কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্যের কথা জানান দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও দুর্গাপূজা পর্যবেক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক খায়রুল কবির খোকন।
সংবাদ সম্মেলনে খায়রুল কবির খোকন বলেন, ‘দুর্গাপূজাকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে বিএনপি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলায় দলের নেতারা এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রতিটি ওয়ার্ডের পূজামণ্ডপে পূজা উদ্যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা কাজ করবেন।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের ধর্মীয় অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পক্ষে বিএনপি অবস্থান নেয়। অতীতেও নেতাকর্মীরা পূজামণ্ডপের সুরক্ষায় দায়িত্ব পালন করেছেন। এবারও যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি না ঘটে, সে জন্য সারা দেশের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
পর্যবেক্ষণ কমিটির বৈঠক ও গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ:
সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের সভাপতিত্বে এবং কমিটির সদস্য সচিব ও দলটির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের সঞ্চালনায় মঙ্গলবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কমিটির এই প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক থেকে জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতাকর্মী এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মান্যগণ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে পর্যবেক্ষণ কমিটি ও মণ্ডপকেন্দ্রিক স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠনের আহ্বান জানানো হয়।
সভায় বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশজুড়ে বিভাগীয় সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকদের মাধ্যমে সার্বিক কার্যক্রম সমন্বয় করার কথা জানানো হয়। একই সাথে বিএনপি ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ নীতিতে বিশ্বাস করে উল্লেখ করে ঈদ, দুর্গাপূজা, বড়দিন কিংবা বুদ্ধপূর্ণিমার মতো উৎসবগুলোকে জাতীয় ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে সম্মান জানানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
সরকারি পদক্ষেপ ও সহায়তা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলের প্রথম দুর্গাপূজা আনন্দঘন পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে নেওয়া বিভিন্ন সরকারি পদক্ষেপে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। সভায় প্রতিটি পূজামণ্ডপে সরকারি সহায়তার চাল ৫০০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ৬০০ কেজি নির্ধারণ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা এবং পূজার ছুটি একদিন বৃদ্ধি করার পদক্ষেপকে স্বাগত জানানো হয়।
এ ছাড়া দলের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সরকারি কার্যক্রমে বিএনপির পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভা শেষে খায়রুল কবির খোকন ও সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল রাজধানীর গোপীবাগে রামকৃষ্ণ মিশন পরিদর্শন করেন। সেখানে রামকৃষ্ণ মিশনের অম্বেশানন্দ মহারাজ বিএনপি প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান এবং সার্বিক প্রস্তুতির চিত্র তুলে ধরেন।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও কমিটির সংশোধনী:
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, প্রান্তিক জনশক্তি উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক অপর্ণা রায় দাস, সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু ও জন গোমেজ, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, রমেশ দত্ত, দেবাশীষ রায় মধু, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক পার্থ দেব মণ্ডল, ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি জয়দেব রায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস প্রমুখ।
এদিকে, বিএনপির দুর্গাপূজা পর্যবেক্ষণ কমিটিতে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে। সংশোধিত তালিকা অনুযায়ী মিল্টন বৈদ্যর স্থলাভিষিক্ত করে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য দেবাশীষ রায় মধুকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পড়ুন :
সা/


