সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের নিরাপত্তা জোরদার ও আওয়ামী লীগের বিচারের দাবি এনসিপির

বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ এবং দেশে ক্ষমতাসীন বিএনপিকে ইঙ্গিত করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, এই দুই রাজনীতিক শক্তির অবস্থানের কারণেই দেশে কাঙ্ক্ষিত শান্তি ফিরে আসছে না। আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপন সমঝোতা করে ক্ষমতায় আসার অভিযোগ এনে তিনি বলেন, ‘এখন স্বৈরাচার ও চাঁদাবাজ এক হয়েছে। তারা দেশ ধ্বংসের নীলনকশা করছে।’

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১১টায় শরীয়তপুর পৌরসভা অডিটোরিয়ামে এনসিপি শরীয়তপুর জেলা শাখা আয়োজিত এক নাগরিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দুর্নীতির প্রতিবাদ, চাকরিতে নিয়োগ বাণিজ্য, সারের ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ, জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতিবাদে এ সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শরীয়তপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ রুহুল আমিন।

বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে নাহিদ ইসলাম স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘ছাত্ররা জীবন না দিলে তারেক রহমান লন্ডন থেকে বাংলাদেশে আসতে পারতেন না।’ তিনি আরও অভিযোগ তোলেন, অতীতে যারা অর্থ পাচার করেছিল, তাদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে নতুন একদল অর্থ পাচারকারী।

দেশের সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, গ্যাসের দাম থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বিভিন্ন স্তরে সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার কারণেই দ্রব্যমূল্য অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়ছে এবং সাধারণ জনগণ চরম ভোগান্তিতে পড়ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, নিজের দলের ভেতরে থাকা দখলদার, টেন্ডারবাজ ও চাঁদাবাজদের চিহ্নিত করে দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে; অন্যথায় তার গৃহীত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। এ ছাড়া প্রশাসনের উদ্দেশ্যে অতীতের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে কোনো দলীয় প্রভাব ছাড়া নিরপেক্ষভাবে জনগণের স্বার্থে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি।

সভায় উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা সংকট, নিয়োগ বাণিজ্য, দুর্নীতি ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এসব সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা ও রাজনৈতিক দলগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবি জানান।

ড. ইউনূসকে হেনস্তার প্রতিবাদ ও এনসিপির বিবৃতি:

এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। মঙ্গলবার দুপুরে দেওয়া এক পৃথক বিবৃতিতে তিনি বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সকল সদস্যের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের এক চরম ক্রান্তিকালে দায়িত্ব গ্রহণ করে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া অর্থনীতি পুনর্গঠনে’ মূল ভূমিকা পালন করেছিল। কিন্তু সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নিউ ইয়র্ক স্থানীয় সময় সোমবার বিকেল পৌনে ৪টায় বিমানবন্দরে হুইলচেয়ারে করে বের হওয়ার সময় নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী ও যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ কয়েকজন ড. ইউনূসের সামনে গিয়ে তোপের মুখে ফেলেন। এতে বাধা পেয়ে হুইলচেয়ার ঘুরিয়ে তাকে টার্মিনালের ভেতরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় তার সঙ্গে লাগেজ হাতে ছিলেন সাবেক সরকারের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ও ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ।

একসময় ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নাহিদ ইসলাম বলেন, এই ঘটনা আওয়ামী লীগের ‘সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির নির্মম, সহিংস ও অমানবিক চরিত্রকে’ নতুন করে উন্মোচিত করেছে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এ দেশের জনগণের কাছে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার দুই বছর পরও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনীর চরিত্রে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন আসেনি। তাদের মধ্যে অতীতের অপকর্মের জন্য ন্যূনতম অনুশোচনার কোনো লক্ষণও নেই।”

দেশ ও বিদেশে সক্রিয় এই সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ককে পুরোপুরি প্রতিহত করার তাগিদ দিয়ে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, জুলাই গণহত্যাসহ ফ্যাসিস্ট আমলের গুম-খুনের সাথে জড়িতদের বিচার দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকর করতে হবে। একই সাথে তিনি ‘গণহত্যা ও সন্ত্রাসের দায়ে’ দল হিসেবে অবিলম্বে আওয়ামী লীগের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার জোরালো দাবি জানান।

পড়ুন : ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৯ মৃত্যু

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন