স্বর্ণ চোরাচালান, অস্ত্র, বিস্ফোরক ও পুলিশ হত্যার অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট একাধিক মামলায় আজমির ওরফে অমিতের নাম রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে । একই সঙ্গে রাজধানীর বাড্ডা, সাতারকুল, উত্তরা ও দক্ষিণখান এবং নোয়াখালীর হাতিয়ায় তাঁর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ থাকার ও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে । এসব সম্পদের মালিকানা ও অর্থের উৎস নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
বিভিন্ন মামলা থেকে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আজমির ওরফে অমিতের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহের ত্রিশাল ও ভালুকা এবং ঢাকার বিমানবন্দর ও রমনা থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এসব মামলার মধ্যে অস্ত্র, বিস্ফোরক, স্বর্ণ চোরাচালান ও পুলিশ হত্যার অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট মামলার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মামলাগুলোর পূর্ণাঙ্গ নথি ও বর্তমান বিচারিক অবস্থা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলে দাবি উঠেছে।
বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলার তথ্য:
সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার ২১ নম্বর মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মামলা নম্বর ৫১/২০১৮ অস্ত্র মামলা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। একই থানার ২১ নম্বর মামলার সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল মামলা নম্বর ৫৩/২০১৮ বিস্ফোরক-সংক্রান্ত মামলা বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া ত্রিশাল থানার ২০ নম্বর মামলার দায়রা মামলা নম্বর ৯৭৭/২০২০-কে পুলিশ হত্যার মামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ময়মনসিংহের ভালুকা থানার ২০ নম্বর মামলার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মামলা নম্বর ৫৭/২০১৫ বিস্ফোরক-সংক্রান্ত মামলা বলে জানানো হয়েছে।
ভালুকা থানার আরও একটি মামলার মূল নম্বর পাওয়া যায়নি। তবে অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের ১/২০২০ ও ৩/২০২০ নম্বরের মামলার তথ্য দেওয়া হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, একটি মামলা অস্ত্র ও বিস্ফোরক-সংক্রান্ত পৃথক অংশে বিভক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে, ঢাকার বিমানবন্দর থানায় স্বর্ণ চোরাচালান-সংক্রান্ত দুটি মামলা এবং রমনা থানায় অস্ত্র, বিস্ফোরক ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একাধিক মামলা থাকার অভিযোগ রয়েছে।
একাধিক সুত্রে জানা যায়, তার রয়েছে সাতারকুলে ৩০ কোটি টাকার ভবন,উত্তরায় তিনটি ফ্ল্যাট,দক্ষিণখানে ১৪ কাঠা জমি ছাড়া ও হাতিয়ায় রয়েছে তেলের ট্যাংকার ও বিঘায় বিঘায় জমি।
রাজধানীর উত্তর বাড্ডার সাতারকুল এলাকায় প্রায় ছয় কাঠা জমির ওপর একটি বহুতল ভবন থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। সাতারকুল রোডের ২৪৪ নম্বর ঠিকানায় অবস্থিত ভবনটি একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
জমিসহ ভবনটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা বলে দাবি করা হচ্ছে। একই এলাকায় আরও দুটি ফ্ল্যাট থাকার তথ্য রয়েছে, যেগুলোর সম্মিলিত আনুমানিক মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা।
তবে এসব সম্পত্তির নিবন্ধিত মালিকানা এবং আজমির ওরফে অমিতের সঙ্গে সম্পত্তিগুলোর সম্পর্ক নিশ্চিত করতে দলিল ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই প্রয়োজন।
সুত্রে জানা যায়, তার রয়েছে উত্তরায় আরও তিনটি ফ্ল্যাট ঔ সম্পদের মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা, দাবি স্থানীয় সূত্রের।
তবে ফ্ল্যাটগুলোর দলিল কার নামে, কবে কেনা হয়েছে এবং কেনার অর্থের উৎস কী, তা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি এ বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।
এ ছাড়া হাতিয়ার হন্নি গ্রামে বাড়িসহ কয়েক বিঘা জমি থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি নিজের নামে, পরিবারের সদস্যদের নামে কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে আরও সম্পদ থাকার অভিযোগও রয়েছে।
প্রাথমিক তথ্যে উল্লেখ করা সম্পদগুলোর আনুমানিক মূল্য যোগ করলে সাতারকুলের ভবন ও ফ্ল্যাট, উত্তরা ও দক্ষিণখানের সম্পত্তি এবং হাতিয়ার তেলের ট্যাংকার মিলিয়ে মোট মূল্য প্রায় ৪৭ কোটি ৪০ লাখ থেকে ৪৯ কোটি।
একাধিক মামলায় নাম থাকার অভিযোগের পাশাপাশি বিপুল সম্পদের তথ্য সামনে আসায় সম্পদ অর্জনের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব সম্পত্তি বৈধ আয়ের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে কি না, সম্পদ কেনার সময়কাল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আয়-ব্যয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা যাচাই করার দাবি উঠেছে।
তাদের দাবি আয়কর রিটার্ন, ব্যাংক লেনদেন, জমি ও ফ্ল্যাটের দলিল, কোম্পানির মালিকানা এবং তেলের ট্যাংকারের নিবন্ধন নথি পরীক্ষা করলে অমিতের প্রকৃত তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এ সব বিষয়ে আজমির ওরফে অমিতের বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
পড়ুন : ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৯ মৃত্যু
সা/


