সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত মসজিদে নববীর অত্যন্ত পবিত্র ও মর্যাদাপূর্ণ স্থানটির নাম ‘রিয়াজুল জান্নাত’। আরবি এই শব্দগুচ্ছের শাব্দিক অর্থ হলো ‘জান্নাতের বাগান’। বিশ্বের কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানের কাছে এটি পৃথিবীর অন্যতম পূতপবিত্র স্থান হিসেবে সমাদৃত। মূলত মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারক এবং তাঁর পবিত্র মিম্বারের মধ্যবর্তী অংশটুকুই রিয়াজুল জান্নাত নামে পরিচিত।
রিয়াজুল জান্নাত সম্পর্কিত ৫টি উল্লেখযোগ্য তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
১. মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ স্থান
বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে হাজি ও ওমরাহ পালনকারীরা মসজিদে নববীতে এসে এই বিশেষ স্থানে নামাজ আদায় করেন, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন এবং মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ মুনাজাতে অংশ নেন। এই স্থানের ইবাদতের মাধ্যমে বিশেষ আত্মিক প্রশান্তি ও নৈকট্য লাভ করা যায়।
২. হাদিসের বর্ণনায় রিয়াজুল জান্নাতের মহাত্ম্য
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি বিখ্যাত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আমার ঘর এবং আমার মিম্বারের মধ্যবর্তী স্থানটি জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান এবং আমার মিম্বারটি আমার কাউসারের ওপর অবস্থিত।” (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)। এই পবিত্র স্থানে বেশি বেশি জিকির ও দোয়া করার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
৩. পৃথিবীতে জান্নাতের অংশ ও ঐতিহাসিক স্তম্ভ
পৃথিবীতে অবস্থিত জান্নাতের অংশ হিসেবে বিবেচিত এই পবিত্র স্থানে মোট আটটি ঐতিহাসিক স্তম্ভ রয়েছে। মসজিদে নববীর আদি নির্মাণকালে প্রথম ছাদ ধরে রাখার জন্য যেসব খেজুরগাছের কাণ্ড ব্যবহার করা হয়েছিল, ঠিক সেই নির্দিষ্ট স্থানগুলোতেই এই স্তম্ভগুলো নির্মিত হয়েছে। এছাড়া এর স্বতন্ত্র সবুজ রঙের গালিচা ও পুষ্পশোভিত সাজসজ্জা জান্নাতের আবহ ও সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তোলে।
৪. ইতিহাস ও বিবর্তনের ধারা
হিজরতের পর সূচনালগ্নে নবীজি (সা.) মদিনায় খোলা আকাশের নিচে গাছের ছায়ায় সালাত আদায় করতেন। পরবর্তীতে খেজুরপাতা ও কাঠ দিয়ে একটি সাধারণ অবকাঠামো তৈরি করা হয়, যেখান থেকে তিনি ইসলামের প্রচার ও দ্বীনি দাওয়াত পরিচালনা করতেন। কালের বিবর্তনে বিভিন্ন খলিফা ও শাসকের আমলে বহুবার সংস্কার ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে সেই খেজুরপাতার প্রাথমিক কাঠামোটিই আজকের সুবিশাল মসজিদে নববীতে রূপ নিয়েছে। এই ঐতিহাসিক স্থানটি পূর্বে ‘রওজাতুন নবী’ হিসেবেও পরিচিত ছিল।
৫. ইবাদত ও জিয়ারতের নিয়মাবলি
রিয়াজুল জান্নাতে শান্তিতে ইবাদত ও নামাজ আদায়ের জন্য কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হয়। সপ্তাহের সাধারণ দিনগুলোতে তুলনামূলক কম ভিড় থাকায় জিয়ারত করা সহজ হয়। এই স্থানে প্রবেশের জন্য প্রধানত তিনটি ফটক রয়েছে—বাব-ই জিবরিল, বাব-ই রহমত এবং বাব-উল বিদা। পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা নির্দিষ্ট সময়ে ইবাদতের ব্যবস্থা থাকে। ভেতরে প্রবেশের আগে জুতো খুলে ওজু করে নেওয়া আবশ্যক এবং কাউকে কোনো ধরনের কষ্ট না দিয়ে একান্তভাবে নফল নামাজ ও কোরআন তিলাওয়াতে মশগুল থাকা উচিত।
পড়ুন : এনসিপির নতুন কৌশল কী, ৪ নেতাকে ঘিরে যে নতুন হিসাব
সা/


