নতুনভাবে বাংলাদেশ গঠন ও গণতন্ত্রের ভিতকে শক্তিশালী করতে দলমত নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, এ মুহূর্তে সবার সহযোগিতার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করাই সবচেয়ে জরুরি বিষয়।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে শহরের একটি চায়নিজ রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত ‘লক্ষ্মীপুর সমাজ উন্নয়ন পরিষদ’-এর বার্ষিক সাধারণ সভা ও শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ২৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষাবৃত্তি তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সার্বিক রাজনৈতিক ও দেশের অতীত পরিস্থিতি তুলে ধরে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, “১৭ বছরের বর্ণনা করার প্রয়োজন নেই। আমি-আপনি আন্দোলন করে সরকার গঠন করেছি। নির্বাচনি প্রক্রিয়া ছিল না। আজ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নতুনভাবে শুরু করেছি। এ যাত্রা অনেক দূর নিয়ে যেতে হবে। অনেক কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করেই টার্গেট পয়েন্টে পৌঁছাতে হবে। যে যেখানে আছি না কেন, আমাদের দায়িত্ব হলো সর্বাত্মক সহযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে ঐক্য ঠিক রেখে সামনের দিনগুলো পার করা। দলমত নির্বিশেষে চেষ্টা করবো দেশের গণতন্ত্রের ভিতকে শক্তিশালী করতে। তাহলে অন্তত রুটিন ওয়ার্কও যদি আমরা করে যেতে পারি বাংলাদেশে উন্নয়ন সম্ভব।”
বিগত সময়ের প্রতিকূলতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, “১৭-১৮ বছর বাংলাদেশে ভালো ইতিহাস ছিল না। আমরা একেকজন একেকভাবে ওই পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছি। আজকে আমাদের একটা স্বাভাবিক জীবন এসেছে। এই স্বাভাবিক জীবন পাবো গত ৩ বছর আগেও আমরা এটা চিন্তা করিনি, কিন্তু আমরা পেয়েছি। এই স্বাভাবিক জীবনটাই আমাদের ধরে রাখতে হবে। এতদিন আমরা রাজনৈতিক যুদ্ধ করেছি, এখন আমাদেরকে জীবন যুদ্ধে এগিয়ে যেতে হবে।”
স্বাধীনতার পর থেকে দেশে চলে আসা অভাব-অনটনের যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী মন্তব্য করেন, স্বাভাবিক জীবন বজায় না থাকলে শিক্ষা, সচেতনতা, সমাজসেবা কিংবা রাজনীতির কোনো মূল্য থাকে না।
বর্তমান সরকারের নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, “সারাদেশে আমরা যেভাবে কাজ শুরু করেছি, এতোটুকু বলতে পারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার মহতি উদ্যোগ নিয়ে যাত্রা শুরু করেছেন। ওনার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার জীবদ্দশায় মাত্র সাড়ে তিন বছরে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে কাছ থেকে আপনারা দেখেছেন, তার নেতৃত্ব, তার সংগ্রামী জীবন, আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে তিনি নির্যাতিত হয়েছেন, সবশেষ আমাদের থেকে বিদায় নিয়েছেন। একই পরিবারের একজন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, একজন জনপ্রিয় রাষ্ট্রপতি ছিলেন, আরেকজন এখন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। তার নেতৃত্বে আজ দেশ পরিচালিত হচ্ছে।”
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর জোর দিয়ে তিনি যুক্ত করেন, “আমরা একেকজন একেক ইস্যুতে কথা বলি। পার্লামেন্টে আমরা সুন্দর আলোচনাও করি। কিন্তু বাইরে গিয়ে সেই আলোচনা আমরা অনেক সময় ধরে রাখতে পারি না। আবার আমরা একটু রেগে যাই, আমরা আবার অন্য কর্মসূচিতে চলে যাওয়ার চেষ্টা করি। যেটা অনেক সময় দেশের জন্য ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। সেজন্য সবদিক থেকে চিন্তা করে আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে।”
লক্ষ্মীপুর সমাজ উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ ছাইফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বাফুফে সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা, জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি হাফিজুর রহমান, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেন, লক্ষ্মীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম লিটন এবং লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আ হ ম মোশতাকুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
পড়ুন : দুই বাংলাদেশি পুলিশ সদস্যকে ফেরত দিলো বিএসএফ
সা/


