ছেলে সন্তান না থাকায় পোষা প্রাণী গরুকেই আপন আত্মীয় মনে করে জীবন যাপন করছিলেন এক নারী তাও আগুনে গুড়ে মারা যাওয়ায় পাগল প্রায় ঐ নারী। অগ্নিকান্ডে নিঃস্ব হয়ে গেছেন স্বামী পরিত্যাক্তা নারী কল্পনা বর্মণ! ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল ইউনিয়নের নবগ্রামে গুয়ালঘরে মশার কয়েলের আগুন পুড়ে মারা গেছে ঐ কৃষাণীর পাঁচটি গরু। এই ঘটনায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তিনি। এতে প্রায় ১০লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে তার আগেই গোয়াল ঘর, রান্না ঘরসহ পুড়ে যায় ৫টি গরু। অগ্নিকান্ডে সব হারিয়ে চরম অসহায় হয়ে পড়েছেন গৃহবধূ কল্পনা বর্মণ। তাঁর জীবিকার অবলম্বন ছিল গরুগুলো। আগুনে পাঁচটি গরু মারা যাওয়ায় এখন অনেকটা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কল্পনা বর্মণ নবগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় রবিন বর্মণের স্ত্রী। প্রায় এক বছর আগে তাঁর স্বামী তাঁকে ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে জীবনযাপন করে আসছিলেন তিনি। গরু লালন-পালনের মাধ্যমে নিজের জীবন চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন কল্পনা। কিন্তু অগ্নিকান্ডে তাঁর শেষ অবলম্বনটুকুও হারিয়ে গেছে। বন্ধন এনজিওতে কল্পনা বর্মণের এক লাখ টাকা ঋণ রয়েছে। একদিকে গরু হারিয়ে জীবিকা বন্ধ হওয়ার উপক্রম, অন্যদিকে ঋণের বোঝা সব মিলিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি। কীভাবে এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠবেন এবং ঋণ পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন এই অসহায় নারী। কল্পনা বর্মন বলেন, ওরা আমার সন্তানের মত ছিল। আজ আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম। ৫টা গরু চোখের সামনে পুড়ে গেল। এখন কিভাবে চলবো ভেবে পাচ্ছি না। স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও কল্পনা বর্মণের জীবনে নেমে এসেছে গভীর সংকট। প্রায় ১০লাখ টাকার ক্ষতি কাটিয়ে উঠে নতুন করে জীবন শুরু করা তাঁর একার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।
যন্ত্রাইল ইউনিয়নের ৯নং ওযার্ডের সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, গরুকে খাওয়ানোর জন্য গোয়ালঘরে কিছু খড়কুটা রাখাছিলো। ধারণা করা হচ্ছে, স্তুপ করে রাখা ঐ খড়কুটার উপরে জ্বলন্ত কয়েলের ওপড়ে পড়ে। সেখান থেকে গোয়ালঘরে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।
এবিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পাদ কর্মকর্তা ডাঃ ফারহানা জাহান বলেন, নবগ্রামের কৃষাণী কল্পনা বর্মণ এর গুয়ালঘরে আগুনলেগে পাঁচটি গরু মরার ঘটনাটি আমি শুনেছি। তবে নিঃস্ব ঐ কৃষাণীর জন্য আমাদের কিছু করার নেই। পিআইও অফিসে যোগাযোগ করলে হয়তো বা কোন সরকারী সাহায্য-সহযোগিতা পেতে পারেন।
এবিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইয়াছিন খন্দকার বলেন, ঘটনাটি আমি জানার সাথে সাথে ঐ নিঃস্ব কৃষাণীর জন্য শুকনো খাবার পাঠিয়েছি। এবং আমার উপর মহলে বিষয়টি জানিয়েছি সরকারি সহযোগিতা আসলেই তাকে দেওয়া হবে।
পড়ুন : বিষ দেয়া মাছসহ দুই জেলেকে আটকের পর শুধু জরিমানা


