শারদীয় দুর্গাপূজার ঢাকের শব্দ থেমেছে কদিন হলো। মণ্ডপ থেকে বিদায় নিয়েছেন দেবী দুর্গা। এরই মধ্যে উৎসবের আঙিনায় এসে হাজির আরেক দেবী—মা লক্ষ্মী। ধন-ধান্য ও সমৃদ্ধির দেবীকে ঘরে বরণ করে নিতে তাই ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দুরা। আর সেই অপেক্ষার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাজারে সারি সারি প্রতিমা সাজিয়ে বসেছেন মৃৎশিল্পীরা।
আগামী রোববার (২৫ অক্টোবর) লক্ষ্মীপূজা। এ উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরশহরের রাধামাধব আখড়া কেন্দ্রীয় মন্দির প্রাঙ্গণে বসেছে লক্ষ্মী প্রতিমার ছোট্ট বাজার। মাটির তৈরি নানা আকারের প্রতিমা নিয়ে সকাল থেকেই সেখানে বসেছেন কয়েকজন মৃৎশিল্পী। কেউ ক্রেতার সঙ্গে দরদাম করছেন, কেউ আবার পছন্দের প্রতিমাটি হাতে তুলে নিয়ে বাড়ির পথ ধরছেন।
শুক্রবার বিকেলে মন্দির প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি করে সাজানো হয়েছে বিভিন্ন আকারের লক্ষ্মী প্রতিমা। কোনোটি ছোট, কোনোটি একটু বড়। প্রতিমার সামনে দাঁড়িয়ে পছন্দ-অপছন্দের হিসাব কষছেন ক্রেতারা। তবে ক্রেতাদের মধ্যে নারীর উপস্থিতিই বেশি।
শর্মিলা রায় নামের এক বধূ একটি ছোট আকারের লক্ষ্মী প্রতিমা কিনছিলেন। তিনি বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার প্রতিমার দাম একটু বেশি। তবে প্রতিমাটি পছন্দ হয়ে যাওয়ায় ৩০০ টাকা দিয়ে কিনেছি।’
পলাশ সাহা সন্তানদের পছন্দে ৪০০ টাকা দিয়ে একটি প্রতিমা কিনেছেন। তাঁর কাছে বাজারের প্রতিমাগুলোতে বৈচিত্র্যের অভাব মনে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাজারে প্রতিমা আছে, কিন্তু তেমন বৈচিত্র্য নেই। বেশির ভাগ প্রতিমাই একই ধরনের।’
প্রতিমা বিক্রির অপেক্ষায় থাকা মৃৎশিল্পী নিতাই পাল বলেন, প্রতিমা তৈরির প্রায় সব উপকরণের দাম বেড়েছে। সেই তুলনায় প্রতিমা বিক্রি করে খুব বেশি লাভ হচ্ছে না। সকালে বেচাবিক্রি কম থাকলেও দুপুরের পর ক্রেতা বাড়ে বলে জানান তিনি।
রাধামাধব আখড়া কেন্দ্রীয় মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি দীপক কুমার ঘোষ বলেন, একসময় বড় বাজারে লক্ষ্মী প্রতিমা বিক্রি হতো। নানা কারণে গত চার-পাঁচ বছর ধরে মন্দির প্রাঙ্গণে প্রতিমা বিক্রি হচ্ছে। এতে ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন।
তিনি বলেন, ‘মৃৎশিল্পীদের কাছ থেকে মন্দিরের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের টাকা নেওয়া হয় না। যাওয়ার সময় কেউ ইচ্ছা করলে মন্দিরে প্রণামি দেন। সেটিও সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক, কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।’
দুর্গাপূজার উৎসবের রঙ এখনো যেন মুছে যায়নি। তারই মধ্যে মাটির শরীর, রঙের আঁচড় আর শিল্পীর নিপুণ হাতে বাজারে এসেছেন মা লক্ষ্মী। মৃৎশিল্পীদের চোখে তাই এখন একটাই অপেক্ষা—বিক্রির ব্যস্ততা বাড়বে, ঘরে ফিরবে কিছুটা স্বস্তি।
পড়ুন : শ্রীপুরে যুবলীগের মিছিল, ৮ জন আটক


