পাকিস্তানি নাটকের জনপ্রিয়তা বাংলাদেশে দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে ‘মেরি জিন্দেগি হ্যায় তু’ নাটকে হানিয়া আমিরের সঙ্গে বিলাল আব্বাস খানের অভিনয় দর্শকদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। এবার টেলিভিশনের পর্দায় দেখা সেই প্রিয় অভিনেতাকে সরাসরি দেখার সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশের ভক্তরা। আগামী ৬ নভেম্বর ঢাকায় আসার কথা রয়েছে পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেতা বিলাল আব্বাস খানের। পাকিস্তানের লাইফস্টাইল ও ফ্যাশনবিষয়ক প্রদর্শনী ‘পাকিস্তান লাইফস্টাইল এক্সিবিশন’-এর পঞ্চম আসরে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন তিনি।
আয়োজকদের ঘোষণা অনুযায়ী, বিলাল আব্বাসের সঙ্গে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা রয়েছে তাঁর মা ও ফ্যাশন ডিজাইনার ফারহানা সোহেলেরও। প্রদর্শনীতে ফারহানা সোহেলের নকশা করা পোশাক তুলে ধরা হবে। এর ফলে এবারের আয়োজনে পাকিস্তানি ফ্যাশন, সংস্কৃতি ও বিনোদনজগতের প্রতি আগ্রহী দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
রাজধানীর গুলশান-১-এর গুলশান শুটিং ক্লাবে আগামী ৪ থেকে ৮ নভেম্বর পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে ‘পাকিস্তান লাইফস্টাইল এক্সিবিশন’। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে প্রদর্শনীটি। আয়োজনের তৃতীয় দিন, অর্থাৎ ৬ নভেম্বর সেখানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বিলাল আব্বাস খানের।
প্রদর্শনীতে পাকিস্তানের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, বিয়ের পোশাকের বিশেষ সংগ্রহ, বিভিন্ন ফ্যাশন ব্র্যান্ডের পণ্য এবং দেশটির ঐতিহ্যবাহী খাবার স্থান পাবে। পাকিস্তানের জীবনধারা, ফ্যাশন ও সংস্কৃতির সঙ্গে বাংলাদেশের দর্শনার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়াই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বিলাল আব্বাসের উপস্থিতি এবারের প্রদর্শনীতে বিনোদনপ্রেমীদের আগ্রহ আরও বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে পাকিস্তানি নাটকের নিয়মিত দর্শকদের কাছে অভিনেতার ঢাকায় আসার খবরটি আনন্দের। তবে তাঁর সঙ্গে ভক্তদের সরাসরি সাক্ষাৎ কিংবা ছবি তোলার সুযোগ কীভাবে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে আয়োজকদের বিস্তারিত নির্দেশনা জানা প্রয়োজন।
পাকিস্তানি বিনোদনজগতে বিলাল আব্বাস খান পরিচিত নাম। বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় এবং স্বতন্ত্র অভিনয়শৈলীর কারণে পাকিস্তানের পাশাপাশি ভারত ও বাংলাদেশের দর্শকদের কাছেও পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। রোমান্টিক গল্প থেকে শুরু করে জটিল ও আবেগনির্ভর চরিত্রে অভিনয় করে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন এই অভিনেতা।
তাঁর অভিনীত ‘ইশক মুর্শিদ’, ‘মেরি জিন্দেগি হ্যায় তু’, ‘মান জোগি’, ‘পেয়ার কে সদকে’ ও ‘চিখ’ নাটকগুলো দর্শকদের মধ্যে পরিচিতি পেয়েছে। এসব নাটকে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন তিনি।
বিশেষ করে ‘মেরি জিন্দেগি হ্যায় তু’ নাটকে হানিয়া আমিরের সঙ্গে তাঁর জুটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে। নাটকটির গল্প, দুই অভিনয়শিল্পীর পর্দার রসায়ন এবং আবেগঘন অভিনয় দর্শকদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। ফলে বাংলাদেশে পাকিস্তানি নাটকের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির ধারায় বিলাল আব্বাসের নামও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন ভিডিও প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের নাটক সহজেই দর্শকদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। এর ফলে ভাষা ও ভৌগোলিক সীমারেখা পেরিয়ে বিদেশি অভিনয়শিল্পীদের প্রতিও দর্শকদের আগ্রহ বাড়ছে। পাকিস্তানি নাটকের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশে এমন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
বিলাল আব্বাসের ঢাকায় আসার খবর তাই শুধু একটি ফ্যাশন প্রদর্শনীতে তারকার অংশগ্রহণের বিষয় নয়; বরং দুই দেশের বিনোদন ও সংস্কৃতির প্রতি দর্শকদের আগ্রহেরও প্রতিফলন। তাঁর অভিনীত নাটকগুলোর জনপ্রিয়তা বাংলাদেশে পাকিস্তানি শিল্পীদের পরিচিতি বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।
আসন্ন প্রদর্শনীতে পাকিস্তানি পোশাক ও খাবারের পাশাপাশি দেশটির বিনোদনজগতের একজন পরিচিত তারকাকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করবে। বিশেষ করে বিলাল আব্বাসের ভক্তরা ৬ নভেম্বরের আয়োজন নিয়ে আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছেন।
সব মিলিয়ে, আগামী ৪ থেকে ৮ নভেম্বর ঢাকার গুলশান শুটিং ক্লাবে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পাকিস্তান লাইফস্টাইল এক্সিবিশনের পঞ্চম আসরে ফ্যাশন, ঐতিহ্য ও বিনোদনের সমন্বয় ঘটতে যাচ্ছে। আর ৬ নভেম্বর বিলাল আব্বাস খানের উপস্থিতি আয়োজনটিকে ঘিরে দর্শকদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
পড়ুন:মাত্র ৯৯৯ টাকা দেনমোহরে বিয়ে সারলেন নাট্যশিল্পী সুজাত শিমুল
ইমি/


