আত্মউন্নয়ন নয়, জনকল্যাণই অঙ্গীকার: ব্যারিস্টার মীর হেলাল

আত্মউন্নয়ন নয়,বরং সুবিধাবঞ্চিত গণমানুষের ভাগ্য পরিবর্তনই আমাদের মূল ব্রত। নিজেদের শাসক নয়, জনগণের সেবক হিসেবে আত্মনিয়োগ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রামের হাটহাজারী পৌরসভা আয়োজিত সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি, চলমান প্রকল্প ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ক এক সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

হাটহাাজারী পৌরসভা বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল ও দেশপ্রেমিক দূরদর্শী কাজগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনুসরণ করে চলার উদাত্ত আহ্বান জানান।

হাইব্রিড অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি ও ঐক্যবদ্ধ থাকার ডাক দিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, কোনো অবস্থাতেই কোনো সুযোগসন্ধানী বা হাইব্রিড ব্যক্তিকে দলে ভেড়ানো যাবে না। এ ধরনের সুবিধাবাদীরা দলের মূল আদর্শ বিনষ্ট করে এবং অভ্যন্তরীণ চরম ক্ষতিসাধন করে। দেশ পুনর্গঠনের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে সবাইকে নিঃস্বার্থভাবে দলীয় নীতি ও শৃঙ্খলা মেনে নিজেদের আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে গঠন করা কমিটি কোনোভাবেই পরিবর্তন করা যাবে না। সবাই একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে হবে। অসহায়, দুঃখী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হাসি ফোটাতে আমাদের এই ঐক্য বজায় রাখতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল নিজের জীবনবোধ ও সাংগঠনিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের তাগিদ দিয়ে বলেন, আগে নিজেকে পরিবর্তন করুন, দেখবেন চারপাশের সবকিছু ইতিবাচকভাবে বদলে গেছে। তিনি বলেন, আমাদের সংগঠন হতে হবে নিছক ক্ষমতার জন্য নয়—মানুষের কল্যাণ ও দেশের সার্বিক উন্নয়নের মূল শক্তি হিসেবে।

জন্মভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসার কথা স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, আমি এই হাটহাজারীর সন্তান, হাটহাজারী ও বায়েজিদের সার্বিক উন্নয়ন করা আমার নৈতিক দায়িত্ব ও ধর্ম। আমার মন ও প্রাণ সবসময় এই পরম প্রিয় মাটির টানে হাটহাজারীতেই পড়ে থাকে।

হাটহাজারীবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল জানান, আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই হাটহাজারীতে একটি ৬০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল অনুমোদনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, দ্রুততম সময়ে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের কাজ শুরু করার পাশাপাশি হাটহাজারীর প্রতিটি ইউনিয়নে জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল আরও বলেন, বিগত মাত্র ৮ মাসে আমরা হাটহাজারীতে যে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছি, তা বিগত ১৭ বছরেও সম্ভব হয়নি।

প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল হাটহাজারীর তরুণ সমাজকে মাদকের ছাবল থেকে রক্ষা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সমাজ থেকে মাদকের মূল উৎপাটন করতে সর্বস্তরের মানুষকে একসাথে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

তিনি প্রতিটি এলাকায় সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী কমিটি গঠনের পরামর্শ দেন। সমাজে যার কাজ করার সৎ আগ্রহ রয়েছে এবং সামাজিকভাবে যার স্বচ্ছ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তাকেই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।

হাটহাজারী পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ জাকের হোসেন-এর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মো. অহিদুল আলম-এর সঞ্চালনায় আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় হাটহাজারী পৌরসভা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

পড়ুন : রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের সজোরে ধাক্কা, নিহত ৩

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন