মালয়েশিয়ায় অবস্থারত প্রবাসী বাংলাদেশিদের রাষ্ট্রীয় সেবা দেন বাংলাদেশ হাইকমিশন কুয়ালালামপুর। সেবার মান নিয়ে ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের দুর্নীতির অভিযোগে রয়েছে অনেক পুরাতন। তবে ১২ থেকে ১৫ লাখ প্রবাসীদের সীমিত শঙ্খক কর্মচারী ও কর্মকর্তা নিয়ে বৃহৎ প্রবাসী, কর্মজীবী, পেশাজীবী, ছাত্র-ছাত্রী ও ব্যবসায়ীদের সেবাদিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় তাদের। প্রবাসীদের সেবা সহজ করণ লক্ষ্যে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে বিভিন্ন রাজ্যে গিয়ে সেবা দিয়ে আসছে দূতাবাস। তবে এর জন্য রাষ্ট্রকে গুনতে হয় অতিরিক্ত অর্থ।
সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় প্রেসক্লাব এর সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া ব্যক্তিগত সফরে মালয়েশিয়া আসেন। তিন দিনের এ সফরে ১লা নভেম্বর রবিবার সন্ধ্যায় মালয়েশিয়ায় কর্মরত প্রবাসী সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ কমিউনিটি প্রেসক্লাব, মালয়েশিয়ার আমন্ত্রণে সাংবাদিকদের সাথে রাতে খাবার খান তাঁর দুই সন্তানসহ। প্রবাসী সাংবাদিকদের সাথে আলোচনা সময় তিনি বাংলাদেশের শ্রমবাজার, মালয়েশিয়া অধ্যায়ন রত শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশাজীবী প্রবাসীদের খোঁজ খবর নেন, একপর্যায়ে দূতাবাস এর সেবা নিয়ে কথা উঠলে তিনি বলেন, আমি বহু বছর আগে থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রে ঘুরে থাকি। যখন যে রাষ্ট্রে যায়, সেখানে বাংলাদেশ দূতাবাস সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করি, পৃথিবীর সব রাষ্ট্রে আমাদের বাংলাদেশ দূতাবাস নিয়ে প্রবাসীদের অভিযোগের কোন শেষ নেই। আমি নিজেও খোঁজখবর নিয়ে দেখেছি, দূতাবাসে কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীদের অদক্ষতা, সততা ও ইচ্ছার অভাবে প্রবাসীরা প্রকৃত সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। দূতাবাস চাইলে প্রবাসীদের সেবার মান আরো ভালো করা সম্ভব, তবে এই প্রচেষ্টা কিছু কর্মকর্তার থাকলেও কিছু অসৎ ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের জন্য শেষ পর্যন্ত ভালো কাজ করা সম্ভব হয় না। বেশিরভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী কিভাবে তাদের প্রোমোশন হবে, বিভিন্ন খাত ও কর্মক্ষেত্র দেখিয়ে সরকারি টাকা উত্তোলন করবে এটা নিয়েই ব্যস্ত থাকেন তাঁরা। তিনি বিশ্বাস করেন বাংলাদেশের অর্থনীতির একমাত্র ও অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হচ্ছে এ রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসীরা, তাদেরকে রাষ্ট্রীয় সেবার বাইরে রেখে রাষ্ট্রের প্রকৃতি উন্নতি সম্ভব না। তাই তিনি প্রবাসী সাংবাদিকদের প্রতি আহবান করেন, প্রবাসীদের সাথে হওয়া অন্যায় ও তাদের দাবি গুলো বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ করে রাষ্ট্রের দায়িত্ব থাকা ব্যক্তিদের কাছে তুলে ধরার।
তিনি প্রবাসে কর্মরত প্রবাসী সাংবাদিকদের বিভিন্ন দাবি দাওয়ার কথাও শোনেন, শুনে কথা দেন সরকারের দায়িত্ব থাকা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে ও বিভিন্ন পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলের সম্পাদক, মালিক পক্ষের সাথে কথা বলে, প্রবাসি সাংবাদিকদের দাবির কথা তুলে ধরবেন। প্রবাসের মাটিতে নানা ব্যস্ততার মধ্যেও প্রবাসি ও বাংলাদেশ কমিউনিটির বিভিন্ন সংবাদ তুলে ধরার জন্য তিনি, প্রবাসী সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান।
এ সময় বাংলাদেশ কমিউনিটি প্রেসক্লাব, মালয়েশিয়ার সভাপতি মোঃ আমিনুল ইসলাম রতন, সহ-সভাপতি আশরাফুল মামুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক , মোঃ সাইদুল হক, সংগঠনিক সম্পাদক বাপ্পী কুমার দাস, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক সওকত হোসেন জনি ও প্রবাসী উদ্যোক্তা মোঃ মেহেদী হাসান, মোঃ জাকির হোসেন ও মেহেদী হাসান সাংবাদিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
পড়ুন : জঙ্গল সলিমপুরে ইয়াসিনের শত কোটি টাকার জমি নিবন্ধন তদন্তের উদ্যোগ প্রশাসনের


