সৈয়দপুরে পুরোনো কীটনাশক মামলায় প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করার দাবি

নীলফামারীর সৈয়দপুরে ২০২৪ সালে নিষিদ্ধ ঘোষিত কীটনাশক জব্দের একটি পুরোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় প্রকৃত দায়দায়িত্ব নির্ধারণ, জব্দকৃত মালামালের সংরক্ষণ ও হস্তান্তর প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদ্‌ঘাটনের দাবি উঠেছে। এ জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে উচ্চপর্যায়ের একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহলের ব্যক্তিরা।

বিজ্ঞাপন

প্রাপ্ত জিম্মানামার একটি কপি পর্যালোচনায় দেখা যায়, জব্দকৃত মালামাল সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়টি নথিতে উল্লেখ রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। ফলে মালামাল জব্দের পর তা কার জিম্মায় ছিল, কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব কার ওপর ছিল—এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এ ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কীটনাশক জব্দের ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালে। অথচ বর্তমান ওসি ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর সৈয়দপুর থানায় যোগদান করেন। অর্থাৎ ঘটনার প্রায় দুই বছর পর তিনি এ থানার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ফলে ঘটনার সময়কাল, দায়িত্বের ধারাবাহিকতা এবং বর্তমান কর্মকর্তার যোগদানের তারিখ বিবেচনায় নিয়ে দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করা জরুরি।

এ ছাড়া বর্তমান ওসির যোগদানের আগের সময়ে সৈয়দপুর থানায় আরও দুজন কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সময়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা, মালামাল হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এবং সংরক্ষণসংক্রান্ত নথিপত্রও যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

তদন্তে কারও নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া বা না হওয়ার বিষয়টি অনুমাননির্ভরভাবে মূল্যায়ন না করে সংশ্লিষ্ট নথি ও প্রমাণের ভিত্তিতে পরিষ্কার করা উচিত।
অন্যদিকে, বর্তমান ওসি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মাদকবিরোধী কার্যক্রম, চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন বলে স্থানীয় বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তাঁর গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়টিও স্থানীয়ভাবে আলোচিত হচ্ছে। তবে এসব কার্যক্রমের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে সংশ্লিষ্ট থানার অভিযান, মামলা ও উদ্ধারসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

এমন পরিস্থিতিতে পুরোনো একটি ঘটনার দায়দায়িত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে বর্তমান ওসির যোগদানের তারিখ ও তাঁর দায়িত্বের প্রকৃত পরিধি বিবেচনায় নেওয়ার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে অপরাধ দমনে দায়িত্ব পালনকারী কোনো কর্মকর্তার পেশাগত ভূমিকা যেন অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সচেতন মহলের মতে, এ ঘটনার প্রকৃত চিত্র জানতে হলে শুধু একটি তদন্ত প্রতিবেদন নয়, বরং মামলার মূল নথি, আদালতের আদেশ, জিম্মানামা, মালামাল বুঝিয়ে দেওয়ার প্রমাণ, সংরক্ষণের হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট সময়ে দায়িত্ব পালনকারী সব কর্মকর্তার বক্তব্য একসঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এতে ঘটনার সঙ্গে কার কী ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল এবং কোন পর্যায়ে কী দায়িত্ব পালন করা হয়েছে, তা স্পষ্ট হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

এ ক্ষেত্রে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি পূর্ণ সম্মান বজায় রেখে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে উচ্চপর্যায়ের একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হলে বিষয়টির অস্পষ্টতা দূর হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তাকে আগাম দায়ী না করে প্রকৃত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সবার ভূমিকা মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।

সচেতন মহলের প্রত্যাশা, পুরোনো এ ঘটনার সুষ্ঠু নিষ্পত্তিতে দায়িত্বের সময়কাল, মালামালের জিম্মাদারি এবং সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তার ভূমিকা সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে অপরাধ দমনে দায়িত্ব পালনকারী বর্তমান কর্মকর্তার পেশাগত মর্যাদা ও ন্যায়সংগত মূল্যায়নও নিশ্চিত করা হবে।
ব্যক্তি নয়, প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করা এবং নথিপত্রের ভিত্তিতে সত্য উদ্‌ঘাটনই হোক এ ঘটনার মূল লক্ষ্য।

পড়ুন : কালিয়াকৈরে শান্ত পরিবেশ অশান্ত করতে দেওয়া হবে না : ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন