লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক কবিরাজ ও তাঁর ভাই মেহেদী কবিরাজের বিরুদ্ধে চরদখল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান লুটপাট, বাড়িঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের অত্যাচার ও হয়রানিতে বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন কৃষকদল নেতা শামীম গাজী।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলা শহরের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
শামীম গাজী রায়পুর উপজেলা কৃষকদলের সাবেক সদস্যসচিব এবং উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন গাজীর ছেলে। অভিযুক্ত ফারুক কবিরাজ একই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি।
লিখিত বক্তব্যে শামীম গাজী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ফারুক কবিরাজকে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে দেখা যায়নি। ৫ আগস্টের পর তিনি হাইব্রিড হিসেবে আবির্ভূত হয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হয়েছেন। এরপর তাঁর ভাই মেহেদী কবিরাজের নেতৃত্বে একটি অস্ত্রধারী বাহিনী এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে। তারা চরের অন্তত দুই হাজার একর জমি দখল, মাছঘাট নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি এবং বিএনপির দুঃসময়ের নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শামীমের দাবি, মিথ্যা মামলা দিয়ে এলাকার অন্তত দুই হাজার বিএনপি নেতাকর্মীকে ঘরছাড়া করা হয়েছে। তাঁদের অনেকে নিরাপত্তাহীনতায় রাতেও বাড়িতে ঘুমাতে পারছেন না।
নিজের ওপর নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ ১৩ বছরেও তিনি রাতে বাড়িতে ঘুমাতে পারেননি। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরও ফারুক কবিরাজের ষড়যন্ত্র ও তাঁর ভাই মেহেদী কবিরাজের একের পর এক হামলার কারণে বাড়িতে থাকতে পারছেন না। তাঁর তিনটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখল করে প্রায় ২২ লাখ টাকা লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং মাছের বাক্স নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
শামীম আরও বলেন, অতীতের চেয়ে বর্তমানে তিনি বেশি কষ্ট ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং তাঁর কর্মীদের মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এতে তিনি ও তাঁর নেতাকর্মীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়ে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া, উপজেলা বিএনপি এবং পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন শামীম গাজী। তাঁর অভিযোগ, উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়াকে কেন্দ্র করেই তাঁকে ও তাঁর অনুসারীদের মামলা দিয়ে হয়রানি, অত্যাচার ও নির্যাতন করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক কবিরাজ বলেন, একটি ঘটনায় বাজারের উত্তেজিত জনগণ শামীমের ফার্মেসিতে হামলা করে। এ ঘটনায় আমি বা আমার কেউ জড়িত নয়। এছাড়া অন্যান্য অভিযোগের ঘটনাগুলো কখনো ঘটেছে কি না আমার জানা নেই। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।
পড়ুন : মেহেরপুরে ককটেল সাদৃশ্য বস্তু, কাফনের কাপড় ও হুমকির চিরকুট উদ্ধার


