ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীর তীরবর্তী জায়গা বালু দিয়ে ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির সদস্য ও সাবেক আহ্বায়ক আজিজুর রহমান লিটনের বিরুদ্ধে। আজ বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের কাশিনগর এলাকায় তিতাস নদীর পূর্ব পাড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযান চালিয়ে বালু ভরাট বন্ধ করা হয়। পাশাপাশি দুইলাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও ৩ হাজার ফুট পাইপ ও ২টি ড্রেজার মিশন বিনষ্ট করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিন।
জানা গেছে, তিতাস নদীর তীরঘেঁষা প্রায় ১০ থেকে ১৫ কানি জমিতে আগে এনসিপি নেতা আজিজুর রহমানের একটি ইটভাটা ছিল। দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত থাকা ওই স্থানে বর্ষা মৌসুমে পানি জমত এবং শুষ্ক মৌসুমে স্থানীয়রা সেটি খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করতেন।অভিযোগ রয়েছে, গত এক মাস ধরে ভেকু দিয়ে জমির চারপাশে মাটি তুলে বাঁধ তৈরি করা হয়। এরপর গত সাতদিন ধরে বিভিন্ন স্থান থেকে নৌকাযোগে ড্রেজারের বালু এনে জায়গাটি ভরাট করা হচ্ছিল। বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩ অনুযায়ী নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে তীরবর্তী প্লাবনভূমি বা ফোরশোর ভরাট করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০ এবং বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর নদীর অববাহিকা, প্রাকৃতিক জলাধার ও তীরবর্তী এলাকার শ্রেণি পরিবর্তন বা ভরাট নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এরই প্রেক্ষিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নদীর তীরবর্তী জায়গা ভরাট বন্ধ করে। এছাড়াও দুই লাখ টাকা জরিমানার পাশাপাশি ৩ হাজার ফুট পাইপ ও ২টি ড্রেজার মেশিন ভেঙে বিনষ্ট করা হয়। এসময় আজিজুর রহমান লিটন ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও তার ম্যানেজার জাফর ইমাম জরিমানার টাকা প্রদান করেন।
সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিন জানান, বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়
এ বিষয়ে এনসিপি নেতা আজিজুল রহমান লিটনের মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে তিনি জানান, আমি ঢাকায় আছি। বিস্তারিত কিছু এখন বলতে পারছিনা। সেখানে আমার ম্যানেজার ছিল।
পড়ুন : ঠাকুরগাঁওয়ে পাট কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে বাবা-ছেলের মৃত্যু


