বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের নিচের শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে আইন কার্যকর হওয়ার কয়েক মাস পর প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে এখনো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। গবেষণা অনুযায়ী, দেশটির ১০ জন কিশোর-কিশোরীর মধ্যে ৮ জনেরও বেশি এখনো নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছে।
অস্ট্রেলিয়ার ই-সেফটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে, আইন কার্যকর হওয়ার তিন মাস পরও ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সী অধিকাংশ শিশু-কিশোর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় রয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়েছে, শুধু আইন প্রণয়ন করলেই অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শিশুদের প্রবেশ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
শিশু ও কিশোরদের মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব কমানোর লক্ষ্যেই ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এই আইন কার্যকর করে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির এই উদ্যোগ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নজর কাড়ে এবং অনেক সরকার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ শুরু করে। তবে শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কয়েকটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইনটির সমালোচনা করে আসছে। তাদের দাবি, বয়স যাচাই ও ব্যবহারকারীদের অধিকার নিয়ে এ আইনে নানা জটিলতা রয়েছে।
গবেষণার ফল প্রকাশের পর অস্ট্রেলিয়ার উৎপাদনশীলতা, প্রতিযোগিতা, দাতব্য ও ট্রেজারি বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী অ্যান্ড্রু লি বলেন, আইনটি শতভাগ কার্যকর না হলেও এটি সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তার মতে, এই উদ্যোগের ফলে অভিভাবকদের মধ্যে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং ইতোমধ্যে লাখ লাখ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে।
অ্যান্ড্রু লি আরও বলেন, সরকার কখনোই শতভাগ আইন মানার প্রত্যাশা করেনি। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ন্যূনতম মদ্যপানের বয়সসংক্রান্ত আইনও সব ক্ষেত্রে শতভাগ অনুসরণ করা হয় না। তারপরও জনস্বার্থে এমন আইন প্রয়োজন এবং সময়ের সঙ্গে এর কার্যকারিতা আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, সন্তানদের অনলাইন কার্যক্রম সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতনতার মাত্রাও আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। চলতি বছরের মার্চে প্রকাশিত প্রাথমিক প্রতিবেদনের সঙ্গে নতুন গবেষণার ফলের মিল পাওয়া গেছে। এদিকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো আইন মানতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে জরিমানার সর্বোচ্চ সীমা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। এর মাধ্যমে আইন বাস্তবায়ন আরও কঠোর করার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায় দেশটি।
পড়ুন:ফের মোদির বাসভবন অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা কেজরিওয়ালের
ইমি/


