বিজ্ঞাপন

প্রধান শিক্ষক নেই, দুই শিক্ষিকাও নেই: খালিয়াজুরীতে ব্যাহত পাঠদান

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলায় পূর্ব জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই সহকারী শিক্ষিকার দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। এর মধ্যে একজন প্রায় ১৫ মাস ধরে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত, আর অন্যজন রয়েছেন দীর্ঘকালীন মেডিকেল ছুটিতে। ফলে মাত্র চারজন শিক্ষক দিয়ে প্রায় তিনশো শিক্ষার্থীর পাঠদান চালাতে গিয়ে বিদ্যালয়টিতে একপ্রকার অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিদ্যালয়টিতে এমনিতেই প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য। এর ওপর দুই শিক্ষিকার দীর্ঘ অনুপস্থিতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীরা জানায়, ‍‍“লিজা ম্যাডাম দীর্ঘদিন ধরে আসেন না এবং আফরোজা ম্যাডামও নিয়মিত না থাকায় আমাদের ক্লাস ঠিকমতো হয় না।”

স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, পরিচালনা কমিটি ও উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়কে জানানোর পরও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যা তাদের হতাশাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টিতে কর্মরত দুই সহকারী শিক্ষিকার অনুপস্থিতির ধরন ভিন্ন। লিজা আক্তার ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে কোনো অনুমোদিত ছুটি ছাড়াই সম্পূর্ণ বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। আফরোজা আক্তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় শারীরিক জটিলতার কারণে প্রথম দফায় এক মাস এবং বর্তমানে দ্বিতীয় দফায় (৮ জুলাই ২০২৬ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) বিনা বেতনের মেডিকেল ছুটিতে আছেন। ছুটি শেষে তিনি সরকারি বিধি অনুযায়ী মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশ্রাফুল আলম জানান, বিদ্যালয়ের সাতটি পদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক আগেই অবসরে গেছেন। বর্তমানে তাকেসহ মাত্র চারজন শিক্ষককে পুরো বিদ্যালয় সামলাতে হচ্ছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “চারজন শিক্ষক দিয়ে প্রায় তিনশো শিক্ষার্থীর পাঠদান পরিচালনা করা অত্যন্ত কষ্টকর। নিয়মিত ক্লাস পরিচালনায় খুব সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

খালিয়াজুরী উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আবু বায়হান বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। তিনি জানান, লিজা আক্তারের বিনা অনুমতিতে দীর্ঘ অনুপস্থিতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষা অধিদপ্তরকে প্রতিবেদন আকারে জানানো হয়েছে। নতুন শিক্ষক নিয়োগ হলে এই সংকট কিছুটা কমবে বলে তিনি আশাবাদী।

অন্যদিকে, নেত্রকোনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহীদুল আজম এ বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় অবিলম্বে শিক্ষক সংকট নিরসন এবং দীর্ঘদিন বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকা শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবকে

পড়ুন:১০ শ্রমিকের মৃত্যুর রেশ কাটেনি, সীতাকুণ্ডে ফের শিপ ইয়ার্ডে প্রাণহানি

ইমি/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন