বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নেত্রকোনা-৪ (মোহনগঞ্জ-মদন-খালিয়াজুরী) আসনে দিনব্যাপী নানা পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে মোহনগঞ্জ উপজেলায় বর্ণাঢ্য র্যালি, জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং নবনির্মিত উপজেলা নতুন ভবনের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর।
সমাবেশের শুরুতে লুৎফুজ্জামান বাবর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা জিয়াউর রহমান এই দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। একইসাথে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।
আলোচনা সভায় দেওয়া বক্তব্যে বিগত সরকারের তীব্র সমালোচনা করে লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, “বিগত ১৫ বছর ধরে দুঃশাসনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি এবং উন্নয়নের প্রতিটি খাতকে লুটপাট করা হয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের আজ যে বিপর্যস্ত অবস্থা, তার মূল কারণ হলো বিগত সরকারের দুর্নীতি। নিজস্ব গ্যাস উত্তোলনে মনোযোগ না দিয়ে তারা বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরশীল হয়েছে, যার ফলে মুষ্টিমেয় কিছু ব্যক্তি বিলিয়নিয়ার হয়েছেন, আর দেশের সাধারণ মানুষ আজ ভুগছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে, তবে বর্তমান সরকার এই সংকট কাটিয়ে উঠতে বহুমুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে।
বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে এলাকার সাধারণ মানুষকে সৌরবিদ্যুৎ বা সোলার প্যানেল ব্যবহারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান এই সংসদ সদস্য। অর্থনৈতিক হিসাব তুলে ধরে তিনি বলেন, “৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে সোলার প্যানেল স্থাপন করলে প্রতি মাসে প্রায় তিন হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় করা সম্ভব। এতে মাত্র দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই বিনিয়োগের টাকা উঠে আসবে এবং একটি প্যানেল ২৫-৩০ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেবে।” মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোও এখন সৌরবিদ্যুতের দিকে ঝুঁকছে, সে বিষয়টি তিনি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে নিজের এবং দলের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন লুৎফুজ্জামান বাবর। তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “মাদক সমাজ ও পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়। বিএনপির মূল দল, ছাত্রদল, যুবদল বা স্বেচ্ছাসেবক দলের কোনো নেতাকর্মী যদি মাদক বা জুয়ার সাথে সামান্যতম জড়িত থাকে, তবে তাকে দল থেকে চিরতরে বহিষ্কার করা হবে।” দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও মাদকের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন বলে তিনি জানান।
নেত্রকোনা-৪ আসনের সার্বিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, বিগত ১৭ বছরে এই এলাকায় কাঙ্ক্ষিত কোনো উন্নয়ন হয়নি। তার মূল রাজনৈতিক লক্ষ্য হলো এলাকার মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা। শিক্ষিত বেকার তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রয়োজনে বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে সার্বিক সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এছাড়াও প্রান্তিক কৃষকরা যেন সময়মতো সার ও কীটনাশক পান, সে বিষয়েও তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
পরিশেষে, দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় এবং বৈষম্যহীন, সুশাসিত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে তিনি সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন লুৎফুজ্জামান বাবর। এ সময় বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পড়ুন: চাপে নয়, প্রয়োজন রয়েছে বলেই কেনা হবে বোয়িং বিমান: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
সা/


