বিজ্ঞাপন

সিরাজগঞ্জে তরুণী নিখোঁজের পাঁচ দিনেও সন্ধান মেলেনি

বিজ্ঞাপন

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে নিজ বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে মোছা. সুরাইয়া আক্তার সাথী (১৮) নামে এক তরুণী নিখোঁজ হয়েছে।

নিখোঁজের পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে রায়গঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

নিখোঁজ সুরাইয়া আক্তার সাথী উপজেলার বেংনাই পশ্চিমপাড়া গ্রামের ছামিদুল ইসলাম ও রূপা খাতুনের মেয়ে। তিনি মিত্র তেঘুরি বেংনাই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে সুরাইয়া আক্তার সাথী নিজ বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এরপর থেকে তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। এতে পরিবারের সদস্যরা চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন।

নিখোঁজের সময় সুরাইয়ার পরনে ছিল গোলাপি রঙের বোরখা। তার গায়ের রং ফর্সা, চুল কালো ও মাঝারি লম্বা। উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি এবং ওজন আনুমানিক ৫৪ কেজি।

এ ঘটনায় ৫ সেপ্টেম্বর সুরাইয়ার ভাই মো. রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে রায়গঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

রায়গঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবু সাঈদ বলেন, নিখোঁজ তরুণীকে উদ্ধারের জন্য পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। তার মোবাইল ফোনের কল রেকর্ডসহ বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তিগতভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে তার অবস্থান শনাক্ত ও উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য নেওয়া হচ্ছে। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার সঙ্গে কার কার যোগাযোগ ছিল এবং কোথায় যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশা করছি, দ্রুতই তার সন্ধান পাওয়া যাবে।

রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তরুণীকে উদ্ধারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্তের পাশাপাশি নিখোঁজ হওয়ার পেছনে কোনো কারণ বা অন্য কোনো বিষয় রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, তাকে উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম প্রয়োজনীয়ভাবে কাজ করছে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে দ্রুত তার সন্ধান পাওয়ার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সুরাইয়ার ভাই মো. রবিউল ইসলাম বলেন, বাড়ি থেকে আসার সময় আমার চাচা তাকে পাঙ্গাসী ইউনিয়নের চক নুরগ্রামে অবস্থিত তালুকদার ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড এলপিজি অটো গ্যাস পাম্পের সামনে নামতে দেখেছেন। ওই পাম্পের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই সুরাইয়া কোথায় গেছে কিংবা তার সঙ্গে কারা ছিলেন, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। আমরা দ্রুত সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও তা পর্যালোচনার দাবি জানাচ্ছি। আমরা যেকোনো মূল্যে সুরাইয়ার সন্ধান চাই। তাকে সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থায় ফিরে পেতে চাই।

পুলিশের পক্ষ থেকে নিখোঁজ তরুণীর সন্ধান পেলে তার পরিবারের সদস্য অথবা নিকটস্থ থানায় তথ্য দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পড়ুন : ভোলায় সাব রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে মাসে কোটি টাকা ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন