দেশে হামের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রাণহানির ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে ১৪৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং আরও ১ হাজার ৭৪ জনের মধ্যে রোগটির সন্দেহজনক উপসর্গ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হাম পরিস্থিতির এসব হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত মার্চ মাস থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১০৪ জন। একই সময়ে হামের মতো বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ৬৬ জন শিশু ও ব্যক্তি। এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৭১২ জনে এবং সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা গেছে ২ লাখ ৭ হাজার ৩৭১ জনের শরীরে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, হামের এসব উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৬৯ জন রোগী। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে সফলভাবে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৬৭২ জন।
২৪ ঘণ্টার বিভাগওয়ারী চিত্র:
বিগত ২৪ ঘণ্টায় যেসব শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ঢাকায় তিনজন, চট্টগ্রামে দুজন এবং সিলেটে একজন রয়েছে।
এ ছাড়া নিশ্চিত হাম শনাক্ত হওয়া ১৪৯ জনের মধ্যে চট্টগ্রামের ৬৭ জন, ঢাকার ৬৩ জন এবং খুলনার ৯ জন।
অন্যদিকে সন্দেহজনক লক্ষণ দেখা যাওয়া ১ হাজার ৭৪ জনের বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে জানা যায়, সর্বোচ্চ ঢাকায় ২৯৫ জন, চট্টগ্রামে ২৪৬ জন, সিলেটে ১৪২ জন, বরিশালে ১৩২ জন এবং খুলনায় ১২৬ জন পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ময়মনসিংহে ৭২ জন, রাজশাহীতে ৩৭ জন ও রংপুরে ২৪ জন সন্দেহজনক রোগী রিপোর্ট করা হয়েছে।
হামের প্রধান প্রধান লক্ষণসমূহ:
স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্যানুযায়ী, হামে আক্রান্ত হলে রোগীর দেহে নানা ধরনের লক্ষণ প্রকাশ পায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি লক্ষণ হলো:
তীব্র জ্বর: হামের শুরুতেই শরীর বেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অনেক সময় এই জ্বর ১০৩ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠে যেতে পারে।
সর্দি ও কাশি: অনবরত হাঁচি দেওয়া, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং তীব্র শুকনো কাশি হওয়া হামের প্রাথমিক ও সাধারণ লক্ষণ।
চোখের সমস্যা: আক্রান্ত শিশুর চোখ লাল হয়ে যায়, অনবরত পানি পড়ে এবং আলোতে তাকালে চোখে তীব্র অস্বস্তি বা ব্যথার অনুভূতি হয়।
মুখের ভেতর সাদা দাগ (কপলিক স্পট): সাধারণত জ্বর আসার দুই থেকে তিন দিনের মাথায় মাড়ির পাশে বা গালের ভেতরের চামড়ায় ক্ষুদ্র লবণের দানার মতো সাদাটে দাগ ফুটে ওঠে।
লালচে ফুসকুড়ি বা র্যাশ: জ্বর শুরু হওয়ার ৩ থেকে ৫ দিন পর প্রথম কানের পেছন ও মুখে লাল দানাদার ফুসকুড়ি দেখা দেয়। পরবর্তীতে তা ঘাড়, বুক, পিঠ ও হাত-পাসহ পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
শারীরিক দুর্বলতা ও অরুচি: পেশিতে ব্যথাসহ শরীর ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং খাবারের প্রতি তীব্র অরুচি তৈরি হয়। ক্ষেত্রবিশেষে পাতলা পায়খানা কিংবা বমিও হতে পারে।
পড়ুন : এসএসসিতে ২ বিষয়ে ফেল করলে ১৫ দিনেই নেওয়া হবে পুনর্বার পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী
সা/


