দীর্ঘ স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তরুণদের অসামান্য ও সাহসী অবদান দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধারের নতুন পথ তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জনঅধিকার পার্টি আয়োজিত ‘দীর্ঘ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি: রাজনীতিবিদ ও পেশাজীবীদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আলোচনা সভায় শেখ হাসিনা সরকারের আমলের ব্যাংক লুটপাট, অর্থ পাচার, খেলাপি ঋণ এবং বিভিন্ন আর্থিক খাতের চরম অব্যবস্থাপনার তীব্র সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি দাবি করেন, দেশে বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা। পতিত সরকারের আমলে ক্যাসিনো ও বিদেশে অর্থ পাচারসহ যেসব আর্থিক অনিয়ম ও বিমা-আইনশৃঙ্খলা খাতের ধ্বংসযজ্ঞ তৈরি হয়েছিল, সেই সংকটের উত্তরাধিকার কাঁধে নিয়েই বর্তমান বিএনপি সরকারকে দেশ পুনর্গঠনে হাত দিতে হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন করে কোনো অর্থ লুটপাট বা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠেনি বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতাচ্যুতদের বিদেশে পাচার করা অর্থের একটি অংশ দেশে এখনো রয়ে গেছে এবং সেই অবৈধ টাকা ব্যবহার করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি, অস্থিতিশীলতা তৈরি এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বোমা হামলার মতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা হচ্ছে। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব নাশকতামূলক ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক ও কড়া নজরদারিতে রয়েছে।
বৈশ্বিক ও আন্তর্জাতিক সংকটের কথা তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের দরুন হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছিল। ফলে দেশে ডিজেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহে মারাত্মক চাপ পড়ে। তবে সরকার মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো পূর্বাঞ্চলীয় দেশগুলো থেকে বিকল্প উপায়ে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণ করায় পরিস্থিতি এখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে।
আসন্ন সার্বজনীন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে কোনো ধরনের ষড়যাত বা অপচেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন রিজভী। এ বিষয়ে বিএনপির নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণকে সতর্ক ও সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, পূজামণ্ডপগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়াতে হবে। বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় উৎসব পালনের পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য রাজনীতিক ও পেশাজীবী নেতাদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। এতে বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু এবং ছাত্রদলের সহসভাপতি চিকিৎসক তৌহিদুল ইসলাম আউয়ালসহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
পড়ুন : ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৯ মৃত্যু
সা/


